Books

অতিথির স্মৃতি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Otithir Smriti - Sarat Chandra Chattopadhyay

Otithir Smriti (অতিথির স্মৃতি) by Sarat Chandra Chattopadhyay (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়), Class 8 Bangla text book’s chapter, story/golpo, question and answer. অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের গদ্য অধ্যায়, প্রশ্ন ও উত্তর।

অতিথির স্মৃতি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

চিকিৎসকের আদেশে দেওঘরে এসেছিলাম বায়ু পরিবর্তনের জন্যে। বায়ু পরিবর্তনে সাধারণত যা হয়, সেও লােকে জানে, আবার আসেও। আমিও এসেছি। প্রাচীর ঘেরা বাগানের মধ্যে একটা বড় বাড়িতে থাকি। রাত্রি তিনটে থেকে কাছে কোথাও একজন গলাভাঙা একঘেয়ে সুরে ভজন শুরু করে, ঘুম ভেঙে যায়, দোর খুলে বারান্দায় এসে বসি। ধীরে ধীরে রাত্রি শেষ হয়ে আসে- পাখিদের আনাগােনা শুরু হয়। দেখতাম ওদের মধ্যে সবচেয়ে ভােরে ওঠে দোয়েল। অন্ধকার শেষ না হতেই তাদের গান আরম্ভ হয়, তারপরে একটি দুটি করে আসতে থাকে বুলবুলি, শ্যামা, শালিক, টুনটুনি-পাশের বাড়ির আমগাছে, এ বাড়ির বকুল-কুঞ্জে, পথের ধারের অশ্বথগাছের মাথায় সকলকে চোখে দেখতে পেতাম না, কিন্তু প্রতিদিন ডাক শােনার অভ্যাসে মনে হতাে যেন ওদের প্রত্যেককেই চিনি। হলদে রঙের একজোড়া বেনে-বৌ পাখি একটু দেরি করে আসত। প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালটায় বসে তারা প্রত্যহ হাজিরা হেঁকে যেত। হঠাৎ কী জানি কেন দিন-দুই এলাে না দেখে ব্যস্ত হয়ে উঠলাম, কেউ ধরলে না তাে? এদেশে ব্যাধের অভাব নেই, পাখি চালান দেওয়াই তাদের ব্যবসা কিন্তু তিন দিনের দিন আবার দুটিকে ফিরে আসতে দেখে মনে হলাে যেন সত্যিকার একটা ভাবনা ঘুচে গেল।

এমনি করে সকাল কাটে। বিকালে গেটের বাইরে পথের ধারে এসে বসি। নিজের সামর্থ্য নেই বেড়াবার, যাদের আছে তাদের প্রতি চেয়ে চেয়ে দেখি। দেখতাম মধ্যবিত্ত গৃহস্থের ঘরে পীড়িতদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই ঢের বেশি। প্রথমেই যেত পা ফুলে-ফুলাে অল্পবয়সী একদল মেয়ে। বুঝতাম এরা বেরিবেরির আসামি। ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন। মােজা পরার দিন নয়, গরম পড়েছে, তবু দেখি কারও পায়ে আঁট করে মােজা পরা। কেউ বা দেখলাম মাটি পর্যন্ত লুটিয়ে কাপড় পরেছে সেটা পথ চলার বিঘ্ন, তবু, কৌতুহলী লােকচক্ষু থেকে তারা বিকৃতিটা আড়াল রাখতে চায়। আর সবচেয়ে দুঃখ হতাে আমার একটি দরিদ্র ঘরের মেয়েকে দেখে। সে একলা যেত। সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন নেই, শুধু তিনটি ছােট ছােট ছেলেমেয়ে। বয়স বােধ করি চব্বিশ-পঁচিশ, কিন্তু দেহ যেমন শীর্ণ, মুখ তেমনি পাণ্ডুর-কোথাও যেন এতটুকু রক্ত নেই। শক্তি নেই নিজের দেহটাকে টানবার, সবচেয়ে ছােট ছেলেটি তার কোলে। সে ভাে আর হাঁটতে পারে না অথচ, ফিরে আসবারও ঠাই নেই? কী ক্লান্তই না মেয়েটির চোখের চাহনি।

সেদিন সন্ধ্যার তখনও দেরি আছে, দেখি জনকয়েক বৃদ্ধ ব্যক্তি ক্ষুধা হরণের কর্তব্যটা সমাধা করে যথাশক্তি দ্রুতপদেই বাসায় ফিরছেন। সম্ভবত এরা বাতব্যাধিগ্রস্ত, সন্ধ্যার পূর্বেই এদের ঘরে প্রবেশ করা প্রয়ােজন। তাদের চলন দেখে ভরসা হলাে, ভাবলাম যাই, আমিও একটু ঘুরে আসিগে। সেদিন পথে পথে অনেক | বেড়ালাম। অন্ধকার হয়ে এলাে, ভেবেছিলাম আমি একাকী, হঠাৎ পেছনে চেয়ে দেখি একটি কুকুর আমার পেছনে চলেছে। বললাম, কী রে, যাবি আমার সঙ্গে? অন্ধকার পথটায় বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারবি? সে দূরে দাঁড়িয়ে ল্যাজ নাড়তে লাগল। বুঝলাম সে রাজি আছে। বললাম, তবে আয় আমার সঙ্গে। পথের ধারের একটা আলােতে দেখতে পেলাম কুকুরটার বয়স হয়েছে; কিন্তু যৌবনে একদিন শক্তিসামর্থ্য ছিল। তাকে অনেক কিছু প্রশ্ন করতে করতে বাড়ির সম্মুখে এসে পৌছলাম। গেট খুলে দিয়ে ডাকলাম, ভেতরে আয়। আজ তুই আমার অতিথি। সে বাইরে দাঁড়িয়ে ল্যাজ নাড়তে লাগল, কিছুতে ভিতরে ঢােকার ভরসা পেল না। আলাে নিয়ে চাকর এসে উপস্থিত হলাে, গেট বন্ধ করে দিতে চাইলে, বললাম, না, খােলাই থাক। যদি আসে, ওকে খেতে দিস। ঘণ্টাখানেক পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম সে আসে নি কোথায় চলে গেছে।

পরদিন সকালে বাইরে এসেই দেখি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আমার সেই কালকের অতিথি। বললাম, কাল তােকে খেতে নেমন্তন্ন করলাম, এলিনে কেন?

জবাবে সে মুখপানে চেয়ে তেমনি ল্যাজ নাড়তে লাগল। বললাম, আজ তুই খেয়ে যাবি,- না খেয়ে যাসনে বুঝলি? প্রত্যুত্তরে সে শুধু ঘন ঘন ল্যাজ নাড়লে অর্থ বােধ হয় এই যে, সত্যি বলছাে তাে?

রাত্রে চাকর এসে জানালে সেই কুকুরটা এসে আজ বাইরের বারান্দার নিচে উঠানে বসে আছে। বামুনঠাকুরকে ডেকে বলে দিলাম, ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও।

পরের দিন খবর পেলাম অতিথি যায় নি। আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে। বললাম, তা হােক, ওকে তােমরা খেতে দিও।

আমি জানতাম, প্রত্যহ খাবার তাে অনেক ফেলা যায়, এতে কারও আপত্তি হবে না। কিন্তু আপত্তি ছিল এবং অত্যন্ত গুরুতর আপত্তি। আমাদের বাড়তি খাবারের যে প্রবল অংশীদার ছিল এ বাগানের মালির মালিনী। এ আমি জানতাম না। তার বয়স কম, দেখতে ভালাে এবং খাওয়া সম্বন্ধে নির্বিকারচিত্ত। চাকরদের দরদ তার পরেই বেশি। অতএব, আমার অতিথি করে উপবাস। বিকালে পথের ধারে গিয়ে বসি, দেখি অতিথি আগে থেকেই বসে আছে ধুলােয়। বেড়াতে বার হলে সে হয় পথের সঙ্গী; জিজ্ঞাসা করি, হ্যা অতিথি, আজ মাংস রান্নাটা কেমন হয়েছিল রে? হাড়গুলাে চিবােতে লাগল কেমন? সে জবাব দেয় ল্যাজ নেড়ে, মনে করি মাংসটা তা হলে ওর ভালােই লেগেছে। জানিনে যে মালির বউ তারে মেরেধরে বার করে দিয়েছে বাগানের মধ্যে ঢুকতে দেয় না, তাই ও সুমুখের পথের ধারে বসে কাটায়। আমার চাকরদেরও তাতে সায় ছিল।

হঠাৎ শরীরটা খারাপ হলাে, দিন-দুই নিচে নামতে পারলাম না। দুপুরবেলা উপরের ঘরে বিছানায় শুয়ে, খবরের কাগজটা যেইমাত্র পড়া হয়ে গেছে, জানালার মধ্য দিয়ে বাইরের রৌদ্রতপ্ত নীল আকাশের পানে চেয়ে অন্যমনস্ক হয়ে ভাবছিলাম। সহসা খােলা দোর দিয়ে সিঁড়ির উপর ছায়া পড়ল কুকুরের। মুখ বাড়িয়ে দেখি অতিথি দাড়িয়ে ল্যাজ নাড়ছে। দুপুরবেলা চাকরেরা সব ঘুমিয়েছে, ঘর তাদের বন্ধ, এই সুযােগে লুকিয়ে সে একেবারে আমার ঘরের সামনে এসে হাজির। ভাবলাম, দুদিন দেখতে পায় নি, তাই বুঝি আমাকে ও দেখতে এসেছে। ডাকলাম, আয় অতিথি, ঘরে আয়। সে এলাে না, সেখানে দাঁড়িয়েই ল্যাজ নাড়তে লাগল। জিজ্ঞাসা করলাম খাওয়া হয়েছে তাে রে? কী খেলি আজ?

হঠাৎ মনে হলাে ওর চোখ দুটো যেন ভিজেভিজে, যেন গােপনে আমার কাছে কী একটা নালিশ ও জানাতে | চায়। চাকরদের হাঁক দিলাম, ওদের দোর খােলার শব্দেই অতিথি ছুটে পালাল। জিজ্ঞাসা করলাম, হ্যা রে, কুকুরটাকে আজ খেতে দিয়েছিস? আজ্ঞে না। মালি-বৌ ওরে তাড়িয়ে দিয়েছে যে। আজ তাে অনেক খাবার বেঁচেছে, সে সব হলাে কী? মালি-বৌ চেঁচেপুঁচে নিয়ে গেছে।

আমার অতিথিকে ডেকে আনা হলাে, আবার সে বারান্দার নিচে উঠানের ধুলােয় পরম নিশ্চিন্তে স্থান করে নিল। মালি-বৌয়ের ভয়টা তার গেছে। বেলা যায়, বিকাল হলে উপরের বারান্দা থেকে দেখি অতিথি এই দিকে চেয়ে প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে। বেড়াতে যাবার সময় হলাে যে।

শরীর সারলাে না, দেওঘর থেকে বিদায় নেবার দিন এসে পড়ল। তবু দিন-দুই দেরি করলাম নানা ছলে। আজ সকাল থেকে জিনিস বাঁধাবাঁধি শুরু হলাে, দুপুরে ট্রেন। গেটের বাইরে সার সার গাড়ি এসে দাঁড়াল, মালপত্র বােঝাই দেওয়া চলল। অতিথি মহাব্যস্ত, কুলিদের সঙ্গে ক্রমাগত ছুটোছুটি করে খবরদারি করতে | লাগল, কোথাও যেন কিছু খােয়া না যায়। তার উৎসাহই সবচেয়ে বেশি।

একে একে গাড়িগুলাে ছেড়ে দিলে, আমার গাড়িটাও চলতে শুরু করল। স্টেশন দূরে নয়, সেখানে পৌছে নামতে। গিয়ে দেখি অতিথি দাঁড়িয়ে। কিরে, এখানেও এসেছিস? সে ল্যাজ নেড়ে তার জবাব দিলে,কি জানি মানে তার কী!

টিকিট কেনা হলাে, মালপত্র তােলা হলাে, ট্রেন ছাড়তে আর এক মিনিট দেরি। সঙ্গে যারা তুলে দিতে এসেছিল | তারা বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি। গরম বাতাসে ধুলাে উড়িয়ে সামনেটা আচ্ছন্ন করেছে, যাবার আগে তারই মধ্য দিয়ে ঝাপসা দেখতে পেলাম স্টেশনের ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে চেয়ে আছে অতিথি। ট্রেন ছেড়ে দিলে, বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না। হয়ত, ওর চেয়ে তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই! কেবলই মনে হতে লাগল, অতিথি আজ ফিরে গিয়ে দেখবে বাড়ির লােহার গেট বন্ধ, ঢােকবার জো নেই! পথে দাঁড়িয়ে দিন-দুই তার কাটবে, হয়ত নিস্তব্ধ মধ্যাহ্নের কোন ফাঁকে লুকিয়ে উপরে উঠে খুঁজে দেখবে আমার ঘরটা।

শব্দার্থ ও টীকা

ভজন – ঈশ্বর বা দেবদেবীর স্তুতি বা মহিমাকীর্তন। প্রার্থনামূলক গান।

দোর – দুয়ার বা দরজা। বাড়ির ফটক। কুঞ্জ লতাপাতায় আচ্ছাদিত বৃত্তাকার স্থান।

উপবন – বেরিবেরি শােথ জাতীয় রােগ, যাতে হাত-পা ফুলে যায়।

আসামি – এ শব্দটি দিয়ে সাধারণত আদালতে কোনাে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বােঝানাে হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে রােগাক্রান্তদের বােঝানাে হয়েছে।

পাণ্ডুর – ফ্যাকাশে।

মালি – মালা রচনাকারী, মালাকর। বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি।

মালিনী – মালির স্ত্রী।

পাঠের উদ্দেশ্য

এ গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সহানুভূতিশীল হবে।

পাঠ-পরিচিতি

শরশ্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পটির নাম পাল্টে এবং ঈষৎ পরিমার্জনা করে এখানে ‘অতিথির স্মৃতি হিসেবে সংকলন করা হয়েছে। একটি প্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কই এ গল্পের বিষয়। লেখক দেখিয়েছেন, | মানুষে-মানুষে যেমন স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক অন্য জীবের সঙ্গেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক নানা প্রতিকূল কারণে স্থায়ীরূপ পেতে বাধাগ্রত হয়। আবার এই সম্পর্কের সূত্র ধরে একটি মানুষ ওই জীবের প্রতি যখন মমতায় সিক্ত হয় তখন অন্য মানুষের আচরণ নির্মম হয়ে উঠতে পারে। এ গল্পে সম্পর্কের এই বিচিত্র রূপই প্রকাশ করা হয়েছে।

লেখক-পরিচিতি

শরশ্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার কৈশাের ও যৌবনের অধিকাংশ সময় ভাগলপুরের মাতুলালয়ে অতিবাহিত হয়। দারিদ্র্যের কারণে কলেজ শিক্ষা অসমাপ্ত থাকে। জীবিকার সন্ধানে রেঙ্গুন গমন ও সেখানে অবস্থানকালে (১৯০৩-১৯১৬) সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়ােগ করেন। ১৯০৭ সালে ‘ভারতী’ পত্রিকায় বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হলে তার সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একের পর এক গল্প-উপন্যাস লিখে তিনি এমনভাবে পাঠক হৃদয় জয় করেন যে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকে পরিণত হন। সাধারণ বাঙালি পাঠকের আবেগকে তিনি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলাের মধ্যে রয়েছে : পল্লীসমাজ’, ‘দেবদাস’, ‘শ্রীকান্ত’ (চার পর্ব), গৃহদাহ’, ‘দেনাপাওনা’, ‘পথের দাবী’, ‘শেষ প্রশ্ন প্রভৃতি। সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কথাশিল্পীর জীবনাবসান ঘটে ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায়।

কর্ম-অনুশীলন

ক. তােমার অভিজ্ঞতা থেকে একটি ভ্রমণকাহিনীর বিবরণ লেখ (একক কাজ)।

খ. তােমার প্রিয় কোনাে পশু বা পাখির কোন কোন আচরণ তােমার কাছে মানুষের আচরণের মতাে | মনে হয়, তার একটি বর্ণনা দাও (একক কাজ)।

নমুনা প্রশ্ন

‘অতিথির স্মৃতি’ অধ্যায় থেকে বিভিন্ন MCQ প্রশ্ন ও উত্তর দেখুন এখানে।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. বাত ব্যাধিগ্রস্ত রােগীরা কখন ঘরে প্রবেশ করে ?

ক. সন্ধ্যার পূর্বে

খ. সন্ধ্যার পরে

গ. বিকেল বেলা

ঘ, গােধূলি বেলা

২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি পেয়েছেন?

ক, ঢাকা

খ. কলকাতা

গ. অক্সফোর্ড

ঘ. কেমব্রিজ

৩. আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন বলতে বােঝায়?

i. কোনাে তিথি না মেনে কারাে আগমনকে

ii. মাত্রাতিরিক্ত সময় আতিথেয়তা গ্রহণ করাকে

iii. অবাঞ্ছিতভাবে কোনাে অতিথির অধিক সময় অবস্থানকে নিচের কোনটি সঠিক?

ঘ. i, ii ও iii

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলাের উত্তর দাও:

বাবা-মার আদরের দুই ছেলে আশিক ও আকাশ এবার ক্লাস টুতে পড়ে। ওদের বাবা একদিন ছােট্ট খাচায় একটি ময়না পাখি উপহার দেয়। সেই থেকে সারাক্ষণ দুই ভাই প্রতিযােগিতা করে পাখিটিকে খাবার ও পানি দেওয়া, কথা বলা আর কথা শেখানাের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু একদিন সকালে দেখে, বিড়াল এসে রাতে পাখিটাকে মেরে ফেলেছে। সেই থেকে যে তাদের অঝাের ধারায় কান্না, কেউ আর থামাতেই পারে না। আজও সেই ময়নার কথা মনে হলে ওরা কেঁদে ওঠে।

৪. উদ্দীপকে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা হলাে—

  1. i. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক
  2. ii. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক
  3. iii. ভালােবাসায় সিক্ত পশু-পাখির বিচ্ছেদ বেদনায় কাতরতা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

৫. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবটি নিচের কোন চরণে প্রকাশ পেয়েছে ?

ক. বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না

খ. আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে

গ. অতএব আমার অতিথি উপবাস করে

ঘ. তা হােক, ওকে তােমরা খেতে দিও

সৃজনশীল প্রশ্ন

১.

মহেশ। দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষড়। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ওকে ঠিকমত খড়-বিচুলি খেতে দিতে পারে না। জমিদারের কাছে সামান্য খড় ধার চেয়েও পায় না। নিজে না খেয়ে থাকলেও গফুরের দুঃখ নেই। কিন্তু মহেশকে খাবার দিতে না পেরে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে- মহেশ, তুই আমার ছেলে। তুই আমাদের আট সন প্রতিপালন করে বুড়াে হয়েছিস। তােকে আমি পেট পুরে খেতে দিতে পারি নে, কিন্তু তুই তাে জানিস আমি তােকে কত ভালােবাসি। মহেশ প্রত্যুত্তরে গলা বাড়িয়ে আরামে চোখ বুজে থাকে।

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী ?

খ. অতিথি কিছুতে ভিতরে ঢােকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন-‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের আলােকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

২.

লালমনিরহাটের যুবায়ের প্রায় ১০ বছর ধরে তার পােষাহাতি, কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানাে ইত্যাদি কাজ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খােরাক জোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাধা রশি ধরে হাজার টানাটানি করে একচুলও নাড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরদিন খদ্দের আরও বেশি লােকজন সাথে করে এসে কালাপাহাড়কে নিয়ে যাবে বলে চলে যায়। কিন্তু ভােরবেলা যুবায়ের দেখে কালাপাহাড় মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিল্কার করে আর বলে-“ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি!

ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন ?

খ. লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. কালাপাহাড়ের আচরণ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের যুবায়ের এর অনুভূতি আর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত’—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button